তিনটি দোকান, তিনটি হিসাব
কোনো ফার্মেসির নাম আমরা লিখিত অনুমতি ছাড়া লিখি না, আর বেশির ভাগ মালিকই নাম দিতে চান না। তাই নাম ছাড়াই তাঁদের হিসাবগুলো রাখা হলো।
এই পাতায় কোনো লোগো নেই কেন
ফার্মেসির লোগো দিয়ে সাজানো দেয়াল বানানো সবচেয়ে সহজ, আর ধরা পড়লে সবচেয়ে দামি। এই বাজারটা এমনই ছোট যে নাম লেখা দোকানে গিয়ে কেউ জিজ্ঞেস করে আসবে — আর যে মালিক কখনও রাজি হননি, তাঁর রাগ করার পুরো অধিকার আছে।
তাই নিয়মটা সোজা: লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ফার্মেসির নাম এই পাতায় ওঠে না। অনুমতির কাগজে তারিখ থাকে, আর কবে আবার দেখতে হবে সেই তারিখও থাকে। অনুমতি তুলে নিলে নামটা পরের বার পাতা খোলার সময়ই মুছে যায় — কারও মনে রাখার দরকার হয় না।
বেশির ভাগ মালিক না বলেন। সেটা তাঁদের অধিকার, আর সাধারণত সেই একই সতর্কতা থেকেই তাঁরা নিজের স্টকটাও পাহারা দেন। নিচের তিনজন হিসাবগুলোয় রাজি হয়েছেন, নামে হননি। তাই যা পাচ্ছেন তা হলো — কী বদলেছে, কতটা বদলেছে, আর কে বলছেন।
কেস স্টাডি
কী বদলেছে, আর কতটা
-
মেয়াদে নষ্ট: মাসে ৳১৮,০০০ থেকে ৳৪,০০০
মিরপুরের তিন শাখার একটি ফার্মেসি
তিনটি কাউন্টার, একজন মালিক, আর কোন শাখায় কী জমে আছে বোঝার কোনো উপায় নেই। প্রথমে এল ব্যাচ আর মেয়াদ; এরপর প্রতি শাখার ম্যানেজারের কাছে সপ্তাহে একবার যেতে লাগল নব্বই দিনের ভেতর মেয়াদ ফুরোনোর তালিকা। পাঁচ মাস পরে মাসিক লোকসান নেমে এসেছে প্রায় চার ভাগের এক ভাগে।
-
নগদের গরমিল: মাসে ১১ দিন থেকে ১ দিন
চট্টগ্রামের একটি একক কাউন্টারের দোকান
মালিকের সন্দেহ ছিল বিক্রি আর ড্রয়ারের টাকার মাঝে ফাঁক আছে, কিন্তু কোনোদিন প্রমাণ করতে পারেননি। গোনা ড্রয়ারের সঙ্গে দিন শেষের মিলকরণ আর প্রতিটি বিক্রির পাশে কে বেচেছে — এটুকুতেই তর্কটা মানুষ নিয়ে থাকল না। যেটুকু ফারাক থাকে, সেটা সাধারণত বাতিল করা কোনো রসিদ।
-
বাকির খাতা: প্রথম তিন মাসে ৳৬২,০০০ আদায়
রাজশাহীর হাসপাতাল-গেটের একটি ফার্মেসি
অর্ধেক বেচাকেনাই বাকিতে, আর খাতাটা পড়তে পারতেন শুধু মালিক নিজে। বাকির হিসাব সফটওয়্যারে ওঠার পর কাউন্টারের যে কেউ বলতে পারেন কার কত বাকি — মালিককে ডেকে আনতে হয় না। বহু পুরোনো, প্রায় ছেড়ে দেওয়া টাকাও তিন মাসে ফিরে এসেছে।
যেটা ভাবিনি সেটা হলো, কর্মীদের সঙ্গে তর্ক করা বন্ধ হয়ে গেছে। কে কী বেচেছে পর্দায় লেখা থাকে, তাই তর্ক করার মতো কিছু আর থাকে না।
আগে ড্রয়ার দুবার গুনেও নিশ্চিত হতে পারতাম না। এখন ফারাকটা পর্দার একটা সংখ্যা, আর বেশির ভাগ দিন সেটা শূন্য।
ছেলে এক বিকেলে বসিয়ে দিয়েছে। শেখানোটা ছিল কাউন্টারের দুই ছেলের জন্য, আর তাতে এক সন্ধ্যা লেগেছে।
এখানে এখনো কোনো ফার্মেসির নাম নেই। লিখিত অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো দোকানের নাম প্রকাশ করি না।