শুরুটা মিরপুরের একটা কাউন্টারে
ফার্মাসেল কোনো সফটওয়্যার কোম্পানির ধারণা থেকে আসেনি। এসেছে একটা দোকান থেকে — যেখানে সন্ধ্যায় লাইন পড়ে, আর তাকের কোণে চুপচাপ মেয়াদ ফুরোনো বাক্স জমে।
যেখান থেকে শুরু
মিরপুরে এক মঙ্গলবার সন্ধ্যা। কাউন্টারে ছয়জন দাঁড়িয়ে, মালিক সকাল আটটা থেকে একই জায়গায়, আর পেছনের তাকে নয় দিন পরে মেয়াদ শেষ হওয়া চল্লিশটা বাক্স। সারা সপ্তাহে ওদিকে কারও চোখ পড়েনি।
ওই ঘরটাই আমাদের পুরো কাজের বিবরণ। কোনো ড্যাশবোর্ড নয়, ফিচারের তালিকা নয় — লাইন পড়ে থাকা একটা কাউন্টার, আর এমন একজন মানুষ যিনি যেকোনো সফটওয়্যারকে মাপবেন একটা প্রশ্নে: পরের চল্লিশ সেকেন্ড এতে দ্রুত হলো, না ধীর?
এমন দোকানে প্রতি মাসে টাকা গলে যায় দুই জায়গা দিয়ে। এক, মেয়াদ — কেনা হলো, তাকে উঠল, ভুলে গেল, শেষে ফেলে দিতে হলো। মালিক টের পান, কিন্তু কখনও মেপে দেখেননি। দুই, বিক্রি আর ড্রয়ারে পৌঁছানো টাকার মাঝের ফাঁক — যা কেউ প্রমাণ করতে পারে না, অথচ সবাই সন্দেহ করে।
দুটোই খোলে একই চাবিতে। তাকে ঠিক কী আছে, কোন ব্যাচের, কত দামে কেনা, কবে মেয়াদ শেষ, আর কে সরিয়েছে — এটুকু জানা থাকলে দুটোই আর রহস্য থাকে না। ইনভয়েস, রিপোর্ট, বেতন — সব এর পরে আসে, আর কোনোটাই এর বিকল্প নয়।
ফার্মেসির মালিক আসলে সফটওয়্যার কেনেন না। তিনি কেনেন টাকার হিসাব নিয়ে কম ঝগড়া, আর কম ফেলে দেওয়া বাক্স। আমরা সেটাই বেচার চেষ্টা করি, আর প্রতিটি রিলিজকে এই মাপকাঠিতেই যাচাই করি।
যা বানাই
আর যে চারটা জিনিস আমরা বানাব না
-
এসএমএস নয়, ফোনে কোডও নয়
আমরা কোনো খুদে বার্তা পাঠাই না — ইনভয়েসও না, অফারও না, লগইনের কোডও না। যা আপনার কাছে পৌঁছানো দরকার, তা যায় ইমেইলে: সেটা আপনার নিজের, খুঁজে বের করা যায়, হিসাবরক্ষককে পাঠানো যায়।
-
আটকে রাখা নেই, বেরোনোর ফিও নেই
আপনার ক্যাটালগ, স্টক, বিক্রি আর বাকির খাতা — সবই সফটওয়্যারের ভেতর থেকে ফাইল করে নামিয়ে নিতে পারেন, আমাদের জিজ্ঞেস না করেই। টাকা দেওয়া বন্ধ করলে অ্যাকাউন্ট শুধু পড়ার অবস্থায় যায়, আর ডেটা নামানোর পথটা খোলা থাকে।
-
আপনার রেকর্ড আপনারই
আমরা আপনার তথ্য বিক্রি করি না, ভাড়া দিই না, কাউকে দিইও না। আমাদের নিজেদের লোক কোনো ফার্মেসির রেকর্ডে ঢোকে শুধু কারণ থাকলে, আর প্রতিটি ঢোকা নাম-সময়সহ লেখা থাকে। কী দেখা হয়েছিল, আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন।
-
এক মাসিক অঙ্ক, সাহায্য তার ভেতরেই
সেটআপ, আজ যেখানে হিসাব রাখেন সেখান থেকে তথ্য তুলে আনা, কাউন্টারের কর্মীদের শেখানো আর ভবিষ্যতের সব আপডেট — সবই মাসিক মূল্যের ভেতরে। ছয় মাস পরে এর কোনোটা আলাদা বিল হয়ে ফিরে আসে না।
কিছু আটকে গেলে কী হয়
আপনি একজন মানুষ পান। লাইনের সামনে কোনো রোবট বসানো নেই, আর এমন কোনো টিকিট নম্বর নেই যার মানে আপনার কাছে কিছুই নয়। ফোন করুন, হোয়াটসঅ্যাপে লিখুন বা ইমেইল করুন — উত্তর দেবেন এমন কেউ যিনি সফটওয়্যারটা চেনেন।
সেটআপের কাজটা আমাদের, আপনার নয়। আজ আপনি যেখানেই হিসাব রাখুন — এক্সেল, অন্য কোনো সফটওয়্যার বা খাতা — পণ্যের তালিকা আর সরবরাহকারীর তালিকা আমরা তুলে দিই, আর কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে ততক্ষণ বসি যতক্ষণ না একটা বিক্রি আগের চেয়ে কম সময়ে শেষ হয়।
কখন পাওয়া যাবে, কোন পথে পাওয়া যাবে আর কোন প্ল্যানে কত দ্রুত উত্তর — সব সহায়তার পাতায় লেখা, আর সেগুলো সত্যিকারের তথ্য।
ভেতরের নিয়ম
চারটে নিয়ম, যেগুলো আমরা ভাঙি না
-
স্টকের একক ব্যাচ, পণ্য নয়
দোকানে চল্লিশটা কিছু থাকে না। থাকে এক ব্যাচের বারোটা — এক দামে কেনা, আগামী চৈত্রে মেয়াদ শেষ; আর আরেক ব্যাচের আটাশটা — অন্য দামে কেনা, আশ্বিনে শেষ। ফার্মাসেলে প্রতিটি পরিমাণ একটা ব্যাচের সঙ্গে বাঁধা, তাই দাম আর মেয়াদ একই তথ্য।
-
রেকর্ড একবারই লেখা হয়
স্টকের নড়াচড়া আর হিসাবের এন্ট্রি কখনও বদলানো বা মোছা হয় না। ভুল শুধরানো হয় নতুন একটা এন্ট্রি দিয়ে, যেখানে লেখা থাকে কোনটা শুধরাচ্ছে। ফলে ইতিহাস যেভাবে ঘটেছে সেভাবেই পড়া যায়, পরে যেভাবে চাওয়া হয়েছিল সেভাবে নয়।
-
টাকা গোনা হয় পুরো পয়সায়
প্রতিটি অঙ্ক পুরো সংখ্যায় রাখা আর টাকায় ছাপা। কোনো রিপোর্টের মোট আসলে গোল করা সংখ্যার আরেক দফা গোল করা নয় — ওভাবেই দিন শেষের হিসাবে কয়েক পয়সা কম পড়ে, যার হদিস কেউ পায় না।
-
বাংলা কোনো অনুবাদের স্তর নয়
কাউন্টার চলে বাংলায় বা ইংরেজিতে, আর দুটোই একই সফটওয়্যার — আলাদা করে লেখা, যন্ত্রে অনুবাদ করা নয়। জরুরি কোনো কিছু শুধু ইংরেজিতে থাকে না।
কোম্পানির তথ্য
Farmasale Technologies Limited ফার্মাসেল বানাচ্ছে ২০২৫ সাল থেকে। কোম্পানিটি বাংলাদেশে নিবন্ধিত, আর আমাদের একটাই অফিস — ফোনটা ওখানেই বাজে।
নিবন্ধিত ঠিকানা
বাড়ি ২৭, রোড ১১, ব্লক এফ
বনানী
ঢাকা ১২১৩
বাংলাদেশ
নিবন্ধন
ট্রেড লাইসেন্স TRAD/DNCC/041872/2025
টিআইএন 567891234567
বিআইএন 004512347-0101
আরজেএসসি C-198452/2025
আমরা ছোট একটা দল। এখানে এখনও কারও ছবি বসাইনি — যেদিন বসবে, সেদিন সেগুলো হবে যাঁরা সত্যিই ফোন ধরেন তাঁদের ছবি, ভাড়া করা হাসিমুখ নয়।
যে কোনো প্রশ্ন, সরাসরি একজন মানুষের কাছে
ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইল। ফর্মের বেড়া নেই, বিক্রির পিছু ধাওয়াও নেই।