মালিককে জিজ্ঞেস করুন দোকানে কত টাকার স্টক আছে — একটা সংখ্যা পাবেন। এরপর জিজ্ঞেস করুন এর কতটুকু তিন মাস পরেও বেচা যাবে — উত্তরের ধরনটাই বদলে যাবে। একটু থামা, তাকের দিকে একবার তাকানো, তারপর আন্দাজ। এই দুই উত্তরের মাঝের ফাঁকটাই সেই জায়গা, যেখান দিয়ে টাকা বেরিয়ে যায়।
ফার্মেসি পণ্য রাখে না, ব্যাচ রাখে
আপনার কাছে চল্লিশটা কিছু নেই। আছে চৈত্রে আসা বারোটা — এক দামে কেনা, সামনের বসন্তে মেয়াদ শেষ; আর আষাঢ়ে আসা আটাশটা — একটু বেশি দামে কেনা, আশ্বিনে শেষ। একই বাক্সে, একই তাকে, অথচ এক জিনিস নয়। একটার দাম আপনি যা দিয়েছেন তা-ই; অন্যটা তারিখ লাগানো একটা লোকসান।
যে হিসাব শুধু পণ্যের মোট রাখে, সে কোনটা কোনটা বলতে পারে না; তাকও পারে না। স্টক ব্যাচে রাখার — পণ্য, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদের তারিখ আর কোন শাখা — পুরো যুক্তিটা এখানেই।
এতে কী কী সম্ভব হয়
- আবিষ্কারের বদলে একটা তালিকা। আগামী ত্রিশ, ষাট আর নব্বই দিনে কী মরছে, সেটা একটা প্রশ্নের উত্তর — সারা দোকান ঘেঁটে দেখা নয়। ফাঁকা সকালে পড়ে নেন, খদ্দের তারিখ দেখিয়ে দেওয়ার দিন নয়।
- পুরোনো ব্যাচ আগে বেচা। কাউন্টার যখন ব্যাচ বেছে দেয়, সে সবচেয়ে আগে মরবে এমনটাই দেয়। তাক তখন নিজেই ঘোরে, বাক্সে কার হাত আগে পড়ল তার ওপর ভরসা করতে হয় না।
- দাবি, যেটা আসলেই তোলা যায়। সময়মতো বললে আর কোন ব্যাচ কতটা তা বলতে পারলে বেশির ভাগ সরবরাহকারী স্বল্প মেয়াদের মাল ফেরত নেন বা সমন্বয় করেন। তারিখের দুই মাস আগে এটা একটা আলোচনা; দুই সপ্তাহ পরে এটা ডাস্টবিন।
- সৎ মূল্যায়ন। স্টকের দাম হলো প্রতিটি ব্যাচ যে দামে কেনা তার যোগফল — আজকের দামকে সংখ্যা দিয়ে গুণ করা নয়। দাম নড়াচড়া করলে এই দুই অঙ্ক অনেক দূরে সরে যায়।
একটা খারাপ সপ্তাহ ছাড়াই তারিখগুলো তোলা
আপত্তিটা সবসময় একই: তাকের সব জিনিসের মেয়াদ তোলা মানে পনেরো দিনের টাইপিং। ঠিক ক্রমে করলে এত লাগে না।
শুরু করুন মাল ঢোকার জায়গা থেকে। আজ থেকে যত বাক্স আসবে, প্রতিটার ব্যাচ আর তারিখ একবারেই উঠবে — যখন কেউ এমনিতেই কার্টনটা হাতে ধরে লেখাটা পড়ছেন। তাতে কয়েক সেকেন্ড খরচ হয়, আর সমস্যাটা অন্তত বাড়া বন্ধ হয়।
তারপর তাকের পুরোনো মালে হাত দিন, সবচেয়ে চলতি জিনিস আগে। যেগুলো রোজ বেচেন, সেগুলো কয়েক সপ্তাহেই ঘুরে নিজে থেকে ঠিক হয়ে যাবে; কাজেই ওখানে দাম নেই। দাম আছে ধীরগতির লাইনে — যেগুলো এত দিন পড়ে আছে যে আর চোখেই পড়ে না। ওগুলোর সংখ্যা আপনি যা ভাবছেন তার চেয়ে কম, আর ফেলা যায় ওগুলোই।
যেটার তারিখ কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছে না, সেটা তারিখ ছাড়াই তুলুন আর বিক্রি হয়ে যেতে দিন। অসম্পূর্ণ হিসাবও যেদিন শুরু করবেন সেদিন থেকেই কাজে লাগে। যে নিখুঁত হিসাব কোনোদিন শেষ হয় না, সেটা লাগে না।
চালু হওয়ার পর কী দেখবেন
মাসে দুটো সংখ্যা পড়া দরকার। এক, কত টাকার মাল ফেলতে হলো, আর সেটা কমছে কি না। দুই, নব্বই দিনের তালিকা থেকে কতটা আপনি ত্রিশ দিনের তালিকায় নামার আগেই সরাতে পেরেছেন — কারণ আসল কাজ মেয়াদ আসতে দেখা নয়, বরং সরবরাহকারী ফেরত নিতে রাজি থাকতে থাকতে বা ছাড়ে বেচে দেওয়া যেতে যেতে কিছু একটা করা।
যেসব দোকান এটা ঠিকঠাক করে, তাদের অভিজ্ঞতা সাধারণত এক রকম। প্রথম কয়েক মাসে লোকসানের অঙ্ক দ্রুত নামে, তারপর একটা জায়গায় থিতু হয়। যেটুকু থাকে তার বেশির ভাগই সত্যিই ধীরগতির মাল, ভুলে যাওয়া মাল নয়। ওটা কেনার সমস্যা, হিসাবের সমস্যা নয় — আর ওটা সারানো অনেক সহজ।
নিজের তাকেই দেখে নিন
ফার্মাসেলে প্রতিটি পরিমাণ একটা ব্যাচ আর একটা মেয়াদের সঙ্গে বাঁধা, আর মেয়াদের তালিকাটা প্রথম পর্দাতেই থাকে। ট্রায়াল সাত দিনের, কার্ড লাগে না, আর আপনার চলতি স্টকের তালিকা আমরাই তুলে দিই।